সাওরক্রাওতের জন্ম চায়নায়, আড়াই হাজার বছরেরও আগে। তবে এটা আদর যত্নে বেড়ে উঠেছে জার্মানীতে, জগত জুড়ে খ্যাতিমান হয়েছে ওদের কারণেই। সাওরক্রাত জন্ম হয়েছে সুখ-দুখের একটা গল্পের ওপর দাঁড়িয়ে। চায়নাতে তখন গ্রেট ওয়াল তৈরী হচ্ছিল। সেখানে লক্ষ শ্রমিক জানপ্রাণ বাজি রেখে কাজ করছিল পরাক্রম দুর্ধর্শ শাসকের কঠিন নিয়ন্ত্রণে। একদা ক্রমাগত হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে শ্রমিকেরা। মহামারীর মতই দেখা দেয় গোটা শ্রমিক সমাজে, সংক্রামিত হয়ে পড়ে প্রায় সবাই। হালকা জরজারী ধরণের রোগে দুর্বল ও কৃষ্ণকায় হয়ে পর পর না ফেরার দেশে পৌছে যেতে শুরু করে একের পর এক বহু শ্রমিক। ফলে অচিরেই স্থবির হয়ে পড়ে গ্রেট ওয়ালের কাজ। তবে চায়নিজ শাসক বলে কথা! হাল ছেড়ে দেয় না কতৃপক্ষ। শাসকের নির্দেশে দ্রুতই সেখানে জড় হতে শুরু করে দেশের বরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজ্যের সব হেকিমেরা। কঠিন নির্দেশ জারি হয়, অবিলম্বে প্রতিকার খুজে বের করতে হবে, সাড়িয়ে তুলতে হবে শ্রমিকদের, না হলে…। তবে মোটেই সহজ হয় না কাজটা। অনেক ভেষজ, নিরলস সাধনা, দিনের পর রাত। অতঃপর একদিন আসে সুপ্রভাত। দ্বীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের মাথায় আবিষ্কার লাভ করে ভেষজ পথ্য সাওরক্রাওত। ক্যাবেজ, সাথে কিছু সরিষা কাচা হলুদের মত অতি সাধারণ জিনিস। প্রক্রিয়া করণের পরে সেগুলোই অসাধারণ কাজ করে তাক লাগিয়ে দিল। অবাক বিস্ময়ে সবাই লক্ষ্য করল, ফার্মেন্টেড ক্যাবেজ, পুরোদমে জীবনীশক্তি ফিরিয়ে দিতে শুরি করল মৃতপ্রায় শ্রমিকদের। সাওরক্রাত, সাধারণে অসাধারণ, প্রকৃতির আশির্বাদ। হেরে গেল মহামারী, রক্ষা পেল বিশেষজ্ঞের দল, প্রাণ ফিরে পেয়ে সুস্থ-সবল ও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠল শ্রমিকের দল। একটা সময় এ খবর জেনে গেল জার্মানিরা। দুর্যোগ ও দুর্দশায় সফল ব্যবহার করে বিশ্বময় সাওরক্রাতের সুখ্যাতি গড়ে দিল জার্মান সেনাদল। সাওরক্রাত সুগার ফ্রী, এটা তৈরীতে ব্যবহার হয় তাজা ক্যাবেজ, কিছু গার্লিক-জিঞ্জার পেষ্ট, সাথে কাঁচা হলুদ, লাল সরিষা, ক্যাপসিকাম, সবুজ পেয়াজ পাতা ও খনিজ লবন। তবে পেছনে প্রশিক্ষিত লোকবলের কর্মকান্ডই আসল, সেটা সুচিন্তিত ফার্মেন্টেশন প্রোসেসের ভেতর দিয়ে চালিত করে ভেষজগুলো। তৈরি হয় সাওরক্রাওত। এটা মোটেই কোনো ওষুধ নয়, তবে ওষুধের সাথে আর সম্পর্ক একেবারেই বৈরী। যিনি নিয়মিত সাওরক্রাত খান তিনি আর ওষুধ খান না, কারণ খেতে হয় না। সাওরক্রাত আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শান্তির শিবিরে, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা থেকে অনেকটাই দূরে। আপনি মসলা বিহীন সুগার ফ্রী কিমচি চাইলে জার্মান রেসিপির এই সাওরক্রাট আপনার জন্য যথার্থ।
আমরা সদ্য তৈরি তাজা সাওরক্রাত পৌছে দিব। আপনি জার হাতে পাবার পর আরো দুটি দিন ফ্রীজের বাইরেই রেখে দিন। এতেই ফার্মেন্টেশন যথার্থ হবে। এরপর নরমাল ফ্রিজে রেখে দিলেই চার মাস ভালো রবে।
| Weight |
250g ,500g ,1kg |
|---|
